তারেকের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা?

ক’ দিন আগেও আওয়ামী লীগের আক্রমনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে লন্ডনে আনুষ্ঠানিক আবেদনও জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। বলা হয়েছিল, যেকোনো মূল্যে তাঁকে বাংলাদেশের ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কিন্তু হটাৎ করেই সব চুপসে গেল। তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগে থমকে গেছে। তারেক বিরুদ্ধে বক্তব্যও দৃশ্যমান নয়, বরং আওয়ামী লীগের নেতারা কথার সব গোলা তাক করেছে বেগম খালেদা জিয়ার দিকে। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার কর্মকান্ড সরকারের পক্ষে।

যেমন, খুলনা এবং গাজীপুরের পর তিন সিটিতে ৩০ জুলাই নির্বাচনের ব্যাপারে বেগম জিয়ার তীব্র আপত্তি ছিলো। তারেক জিয়ার নির্দেশেই সরকারের মুখোশ উন্মোচনের জন্য এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা স্পষ্ট করেই দৃঢ়তার সঙ্গে বলছে যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ কিভাবে নিশ্চিত হলো যে, আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে? বিশেষ করে, বিএনপি নেতারা এখনও ঘটা করেই বলছে, বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোন নির্বাচন নয়। অনেক কট্টরপন্থী নেতা তো আরো আগ বাড়িয়ে বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে তবেই নির্বাচন। কিন্তু এসব গর্জন এবং হুংকার ছাপিয়ে লন্ডনে তারেক জিয়া ৩০০ আসনে মনোনয়ন নিয়েই ব্যস্ত। তিনি ঢাকাতেও নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির মধ্যেই অনেকের ধারণা, তারেক জিয়াকে সম্ভবত সরকার ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছে। আগামী এক টার্ম আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে তারেক সম্ভবত সম্মতি দিয়েছে। আর এই সমঝোতা হয়েছে ভারতের মাধ্যমে এমন দাবি বিএনপির অনেক নেতার। তাদের মতে, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরের ভারত সফরেই এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। এরপর থেকেই দৃশ্যপটে পরিবর্তন দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপি ভারত বিরোধিতা ছেড়ে যেমন ভারতকে খুশি করার নীতি গ্রহণ করেছে, তেমনি সরকারও তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি আপাতত বন্ধ করেছে। তাহলে কি তারেক জিয়া লন্ডনে থাকার শর্তে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধীনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেছেন, টাকার জন্য তারেক সব কিছুই করতে পারে। টাকার জন্য তারেক তাঁর মাকে জেলে রেখে রাজনীতি থেকে নির্বাসনেও পাঠাতে পারে।

ঐ নেতার মতে, তারেক কোন অবস্থাতেই লন্ডনের আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে কারাভোগের ঝুঁকি নেবে না। এমনকি তাঁর মায়ের কষ্টও তাঁর স্বার্থের কাছে খুবই তুচ্ছ। সে সম্ভাবত তাঁর নিজের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করছে।

একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসও তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে। তাহলে কি তারেকের মাধ্যমেই বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনছে আওয়ামী লীগ?

বাংলা ইনসাইডার

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.