নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত বুলবুলের

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনও আলামত দেখছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এমন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে বুলবুলের এই বক্তব্যকে আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

শুক্রবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী চেম্বার ভবন মিলনায়তনে একটি গোলটেবিল বৈঠকে তারা বক্তব্য রাখেন। ‘কেমন নির্বাচন চাই’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে চারজন মেয়র প্রার্থীসহ রাজশাহীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এতে প্রথম আলোর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সোহরাব হাসানের উপস্থাপনায় গোলটেবিল বৈঠকে লিটন ও বুলবুল ছাড়াও মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও মুরাদ মোর্শেদ বক্তব্য রাখেন।

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন, ‘রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন আলমত নেয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে দিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না তার পরিবেশ এখনো তৈরী হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘একজন মেয়র প্রার্থী নগরের সব জায়গা দখল করে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। অন্য কোনও প্রার্থীর জন্য এগুলো টাঙ্গানোর কোনও জায়গা রাখেননি। তারপরও ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আমাদের কোনও অভিযোগ আমলেও নেয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, কর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমার ১৪০০ পুলিং এজেন্টকে নিজ বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্র যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্টরা যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে তা হলে নির্বাচন করে আমাদের কোনও লাভ নেই।

ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরণের যদি কোনও ঘটনা ঘটে তবে এর দায় নির্বাচন সচিব, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে নিতে হবে।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আবেগ ও ক্ষোভ থেকে অনেক কিছু বলছেন। কখনো বলছেন, এ নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের নির্বাচন, কখনো বলছেন, সরকারের চেহারা উন্মোচনের নির্বাচন। আবার এটাও বলছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না।’

বিএনপির আমলের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও মাগুড়ার নির্বাচন স্মরণ করিয়ে লিটন বলেন, এখন সেরকম নির্বাচন হয় না। খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচন বিএনপি দেখেছেন। সেখানে অনিয়ম হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে পারেনি তারা। সে দুইটিতে অনিয়ম হলে তারা এ সিটি নির্বাচনে অংশ নিতেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, আমাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হোক বা কোন অনিয়ম হোক; এমন কোনও কাজ আমরা করতে দেব না। আমাদের কর্মীদেরকে ইতোমধ্যেই কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, অতি উৎসাহী হয়ে কারও কিছু করার দরকার নেই; যাতে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়।

লিটন আরও বলেন, আটকের বিষয়ে আমার কোনও করণীয় নেয়। নির্বাচনের সময় পুলিশ সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করে তাদের আটক করে থাকে; এটি পুলিশের বিষয়। কেউ যদি পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে আসে, যুদ্ধে আসে বা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে আসে তা হলে তার অভিযোগ আমরা দিবই। এ ছাড়া কোনও কাজ আমরা করিনি। অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও দিইনি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৫/১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তিনি রিটানিং অফিসারের কাছে দিয়েছেন। কিন্তু তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কাউকে গ্রেফতারের নির্দেশ বা কাউকে নির্লিপ্ত করার নোটিশ দেয়া এমন ঘটনা আমি শুনিনি। কেন তারা এতো গা ছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন।

ব্রেকিংনিউজ

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.