যুক্তফ্রন্ট নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা। বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব:) মান্নানের বাসায় এই বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেন বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাসদের আ স ম আব্দুর রব, ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্প ধারার মাহী বি. চৌধুরী প্রমুখ। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আরো পড়ুন : নির্বাচনে ইভিএম চালু ইসির দূরভিসন্ধি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি অভিযোগ করে বলেছে, সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইলেক্ট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর মাধ্যমে আরেকটি বড় ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর পথে এগুচ্ছে। যেহেতু তাদের জনপ্রিয়তা নেই, সেজন্য তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ফন্দিফিকির শুরু করেছে। ইভিএম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।

বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরণে এই পদ্ধতির ব্যবহার চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। সব মহলের আপত্তির পরও তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম স্থানীয়ভাবে কেনা ও আমদানি করা দুরভিসন্ধিমূলক।

বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর মুরাদ, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল খান, আমিনুল ইসলাম, শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। গত শনিবার ইসি সচিব নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভবিষ্যতে ভোট গ্রহণে অধিক পরিমাণ ইভিএম ব্যবহার করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, প্রত্যেকটি স্থানীয় নির্বাচনে এই মেশিন ব্যবহারের চিন্তা রয়েছে। তবে অতীতে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ইভিএম ব্যবহারে ভোট গণনায় ত্রুটি ধরা পড়ে। গত গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণে ত্রুটির ফলে ভোটাররা ভোগান্তিতে পড়ে।

রিজভী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের আপত্তির পরও তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম স্থানীয়ভাবে কেনা ও আমদানি করা দুরভিসন্ধিমূলক, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চক্রান্তের পথে অগ্রসর হওয়ার অংশ। এই বিতর্কিত মেশিন নিয়ে কমিশনের কেনো এতো তোড়জোড় সেজন্য জনমনে গভীর সংশয় দানা বেঁধেছে। আমরা আগেও ইভিএম ব্যবহারের ত্রুটি নিয়ে দেশ-বিদেশের নানা দৃষ্টান্ততুলে ধরেছিলাম, কিন্তু কমিশন সেটিকে পাত্তা না দিয়ে

ক্ষমতাসীনদের প্রদর্শিত পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। জনসমর্থনহীন বর্তমান অবৈধ সরকার ডিজিটাল জালিয়াতির জন্যই ইভিএম পদ্ধতি প্রচলন করতে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এতো মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন দেশে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনগুলো নিয়ে সফট ওয়ার প্রোগামাররা বলেছেন, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো বিদ্বেষমূলক প্রোগ্রামিংয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং যে কোনো মুহুর্তে হ্যাকাররা মেশিনটিকে হ্যাক করে ভোট গণনাকে খুব সহজেই টেম্পারিং করতে পারে। যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে ব্যালট পেপারে ভোট গণনা সময় সাপেক্ষ বিষয় হলেও মানুষের এর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা আছে। কারণ উচ্চ প্রযুক্তি সর্বদায় হ্যাকারদের আক্রমণ দ্বারা ভেদ্য হওয়ার ঝুঁকি সম্ভাবনা থাকে। বিরাট পরিবর্তনের ফলে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বাড়ার সাথে সাথে যথই তথ্য ধারণ করার ক্ষমতা বাড়ছে ততই ঝুঁকি ও বাড়ছে। কারণ একটি ভাইরাসই সমস্ত ধারণকৃত ডাটাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ইভিএমে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে আড়াই হাজার মেশিন কেনা হয়েছে বাকি মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শিগগিরিই শুরু হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ১০০টি আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ২৬শ কোটি টাকার ইভিএম কেনার পরিকল্পনা চলছে। আমরা বলতে চাই, দেশের মানুষ ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরনের এই পদ্ধতির ব্যবহারে চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। আমরা আবারো সংসদ নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জনদাবির বিপক্ষের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে নির্বাচন কমিশনে দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানাই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ইভিএম মেসিন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তার বাতিল করার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

রিজভী বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, ইভিএমের একটি ক্ষুদ্র অংশ যার নাম উবঃবপঃধনষব গবসড়ৎু গড়ফঁষব (উগগ)। তার মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল সংরক্ষিত থাকে এবং এই অংশটি ইভিএম থেকে খুলে নেয়া যায় এবং এভাবে অতি সহজেই নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেয়া সম্ভব। অনেক দেশে ইভিএম’র ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর আমাদের সরকার এই অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত মেশিন ক্রয়ের ও ব্যবহারের জন্য কেন এত উন্মুখ তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আসলে এই ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের মহা আয়োজনের কলকাঠিটি নাড়ছে বর্তমান অবৈধ সরকার। আজ্ঞাবাহী ইসি সরকারের নির্দেশের বাইরে এক ধাপ ফেলার ক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনই এখন জনগণের একমাত্র দাবি। এই দাবি এগিয়ে নিতেই বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইভিএম ইস্যু তুলে জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.