হোটেল রুমে মির্জা আব্বাস- বেবী নাজনীনের ৩ ঘন্টা

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আন্দোলন নিয়ে বিএনপি আয়োজিত একটি গোপন বৈঠকের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বিএনপি নেত্রী বেবী নাজনীন। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বর নিয়েই রাজধানীর স্বনামধন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেবী নাজনীন। সূত্র বলছে, বিএনপির এক সিনিয়র নেতাদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করার পরপরই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। গোপন সে বৈঠকে কি হয়েছিল এবং বৈঠক শেষে হঠাৎ কেনো বেবী নাজনীন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সেটি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে পার্টির ভেতর।

গোপন সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ক একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাড়িতে। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়াকে কিভাবে আন্দোলন করে জেল থেকে মুক্ত করা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিভাবে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা যাবে সেটি নিয়েই মূলত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে টেলিফোনে যোগ দেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তারেক যেকোন মূল্যে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য নেতাদের অাদেশ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র নেতারা আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিষয়ে অভিমত দেওয়ার সাথে সাথে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন তারেক। নাগরিক আলোচনা বাদ দিয়ে ভাংচুর, খুন-খারাবি করে হলেও বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য কড়া নির্দেশ দেন তিনি। একপর্যায়ে নেতাদের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারেক। মুক্তির আন্দোলনে ব্যর্থ হলে নেতাদের দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন তারেক। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। কিন্তু আলোচনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনকে বাসায় নামিয়ে দেওয়া নিয়ে। মির্জা ফখরুল তার গাড়িতে করে বাসায় ড্রপ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে উপস্থিত নেতারা হাসিতে ফেটে পড়েন। মির্জা আব্বাস তো বলেই বসেন, ‌ব্যাংককে মিটিং করে তো আগেই আলোচিত হয়েছেন। নতুন করে বুড়ো বয়সে আর কত রং দেখাবেন! মির্জা আব্বাসের কথায় লজ্জায় মাথা নামিয়ে গাড়িতে উঠে মিটিংস্থল ত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল। মির্জা আব্বাসকে ঘটনার পর সকলের সম্মতিক্রমে বেবী নাজনীনকে বাসায় নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান। এক পর্যায়ে মির্জা আব্বাসের দামি প্রাডো গাড়িতে করে রওয়ানা দেন বেবী নাজনীন। সূত্র বলছে, বাড়িতে না নামিয়ে পল্টনের একটি বিলাশবহুল হোটেলে বেবী নাজনীনকে নিয়ে উঠেন মির্জা আব্বাস। জরুরি আলোচনার নামে প্রায় দুই ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মির্জা আব্বাস ও বেবী নাজনীন। প্রায় দুই ঘন্টার বৈঠক শেষে ক্লান্ত ও অবসন্ন দেহে হোটেল ছেড়ে যান তারা।

এই বিষয়ে হোটেলটির ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা মূলত অপরিচিত নারী-পুরুষদের একসাথে একরুমে উঠার অনুমতি দেই না। কিন্তু মির্জা আব্বাস ও বেবী নাজনীন তো সুপরিচিত মুখ। একজন সাবেক মন্ত্রী ও আরেকজন নামকরা গায়িকা। কিভাবে তাদের না করি! তাছাড়া উনারা জরুরি বৈঠকের নামে তিনঘন্টার জন্য রুমটি ভাড়া নেন। রুমে ঢুকার সময় তাদের দুজনকেই উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বৈঠক শেষে বেবী নাজনীন ম্যাডামকে অনেক অসুস্থ দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টা বুঝতে পারিনি।

জানা গেছে, বৈঠকের পর বাসায় ফিরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বেবী নাজনীন। ব্যথায় তার শরীর প্রায় নীল হয়ে পড়েছিল। যার কারণে তার শরীরে ভীষণ জ্বর আসে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। মূলত শরীরের উপর উপর্যপরি ধকল যাওয়ার কারণেই বেবী নাজনীন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানান। সূত্রঃ ভোরের পাতা

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.