চলচ্চিত্র নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ডিপজল

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। বড় পর্দায় নায়ক হিসেবে অভিষেক হলে পরবর্তীতে খল অভিনেতা হিসেবেই দর্শক নন্দিত হয়। খল চরিত্রে বেশ লম্বা সময় অভিনয় করার পর নেন একটা বিরতি। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ও ইতিবাচক চরিত্রের মাধ্যমে ফের ফিরে আসেন ছবিতে। উপহার দেন বেশ কিছু সুপার হিট ছবি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বর্তমান চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বেশ খোলমেলা কথা বলেন তিনি।

বেসরকারি টেলিভিশনে ‘সেন্স অফ হিউমার’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাদিম জয়। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও এই অবস্থা পরিবর্তনে টিভি নাটকের নির্মাতাদের ভূমিকা নিয়ে ডিপজল বলেন, ‘নাটকের মানুষের কারনে আজ চলচ্চিত্র ডুবছে। যারা নাটক থেকে এসে চলচ্চিত্র বানায় সেগুলো চলচ্চিত্র হচ্ছে না বরং তা নাটকই হচ্ছে। ছবি করেত এসে হারাচ্ছে মূলধন। সবাই আয়নাবাজির কথা বলে কিন্তু আয়নাবাজি চলেনি। খোঁজ নিয়ে দেখেন মূলধন উঠেনি। আজকে তারা এফডিসি এসে দখল করে রেখেছে। আরে ভাই চলচ্চিত্র আর নাটক আলাদা। আপনারা থাকেন না আপনাদের নাটকের জায়গা নিয়ে এফডিসিতে কেন? নাটকের কোন পরিচালক চলচ্চিত্রে এসে দুইটার বেশি ছবি করতে পারেনি।’

নাটকের নির্মাতারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করে পুরষ্কার নিয়ে যাচ্ছে তাহলে চলচ্চিত্রের মানুষ কেন পারছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিপজল বলেন, ‘বাংলাদেশে পুরষ্কার নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা। এদেশে আমাকে পুরষ্কার দিলে আমি নিবো না। কেননা বিচারক নিজেই পুরষ্কার নিয়ে নিচ্ছে।’

আপনাকে দেখে অনেকে ভয় পায় এর কারন কি জানতে চাইলে হাসতে হাসতে ডিপজল বলেন, ‘আগে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতাম হয়তো সে কারণেই ভয় পায়। আমাকে ভয় কেন পাবে আমাকে তো পাবলিক কখনো দেখেই নাই। হুট করেই দেখার লোক আমি না। কারন আমি কোন বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে যাই না। কারন ফিল্ম আর্টিস্ট হলে অনেক কিছু থেকেই দূরে থাকতে হয়।’

অনেক ফিল্ম আর্টিস্ট পরিবার বাচানোর জন্য যাত্রা করে চলে উল্লেখ করে এই খল অভিনেতা বলেন, ‘যারা যাত্রা করে তারা বেকার বলেই করে। পাশাপাশি পরিবারকে রক্ষা করার জন্যই করছে।’

চলচ্চিত্রের নায়ক বা অভিনেতা অনেকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেক সস্তা কাজ করছে বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ডিপজল বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার একটু ফিল্মের দিকে তাকালেই হয়। আমাদের তথ্যমন্ত্রনালয় আছে আমার মনে হয়না তারা ফিল্ম নিয়ে মাথা ঘামায়। বছরে একটি পুরষ্কার দিবে আর এটি দিয়েই শেষ।’

যৌথ প্রযোজনা নিয়ে বেশ রাগান্বিত ভাবেই এই অভিনেতা বলেন, ‘কলকাতার ছবি নাটক বাংলাদেশে চলে কেন? কই বাঙ্গালদেশের কোন নাটক বা চলচ্চিত্র তো কলকাতায় চলে না। আর বাংলাদেশের যে সব চলচ্চিত্র ওইখানে আমদানি-রপ্তানির আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় সেই ছবি গুলোতো বাংলাদেশেই চলে নাই। অন্যদিকে কলকাতার সদ্য মুক্তি পাওয়া এদেশে মুক্তি দেয়া হয়। যৌথ প্রযোজনার কারনেই আজ বাংলাদেশের এই অবস্থা।’

এদিকে সুপার স্টার শাকিব খানকে নিয়ে ডিপজল বলেন, ‘শাকিব খানের জন্মটাই ডিপজল কেননা ‘কোটি টাকার কাবিন’ চলচ্চিত্র দিয়েই সে আলোচনায় আসে। তবে শাকিব যা করছে বেশ ভালোই করছে। আমার চোখে এখন পর্যন্ত তেমন কোন খারাপ কাজ আমার চোখে পরেনি।’

উল্লখ্য, ১৯৫৮ সালে ঢাকার মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন ডিপজল। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে ১৯৮৯ সালে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে। তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ সহ ডিপজল পরিবনের স্বত্বাধিকারী।

বিডি২৪লাইভ

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.