যে দ্বীপে সারাক্ষণ শোনা যায় কান্নার আওয়াজ! (ভিডিও)

ইতালির ভেনিস এবং লিডো এই দুই অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত ছোট এক দ্বীপ। লেগুন সেইন্ট মার্ক্স স্কয়ারে অবস্থিত এই দ্বীপ ‘পোভেগ্লিয়া ভেনিস’ বা পোভেগ্লিয়া আইল্যান্ড হিসেবে পরিচিত। ১৭ একর জায়গা জুড়ে পোভেগ্লিয়া দ্বীপ ঘিরে রয়েছে নানা ভৌতিক কাহিনী।

৪২১ খ্রিষ্টাব্দে এই দ্বীপে প্রথম বসতি গড়ে ওঠে। এই দ্বীপে ছিল না শাসকদের কড়াকড়ি। করের বোঝা বা আইন আদালতের ঝক্কিও তেমন একটা ছিল না। ফলে পরবর্তীতে বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে দ্বীপের অধিবাসীরা সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। ৯ম শতকের দিকে দ্বীপের জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সেই সাথে বাড়তে থাকে দ্বীপের গুরুত্ব। এই সময়টায় দ্বীপটি ছিল পোদেস্টা শাসকদের অধীনে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ লীলাভূমি ছিল এই দ্বীপ। আর সেই কারণেই এই দ্বীপ দখলের জন্য চতুর্দশ শতকে ভেনেটিয়ানস ও জেনোইসদের মধ্যে বাঁধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ৷ যুদ্ধে ব্যবহৃত হয় প্রচুর কামান ও বন্দুকের গুলি যার শব্দ আজও সে দ্বীপে নাকি প্রতিধ্বনিত হয় রাতের ঘন অন্ধকারে। দ্বীপের লোকজন এলাকা ত্যাগ করতে থাকে। সেদিনের যুদ্ধে জয়ী হয় ভেনেটিয়ানস সরকার।

দ্বীপ জনশুন্য হয়ে পড়ায় ভেনিস সরকার ক্যামান্ডলিসের সন্ন্যাসীদের এই দ্বীপে থাকার জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু সন্ন্যাসীরা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে দ্বীপটির চারপাশে পাঁচটি অষ্টভুজাকৃতির খাল নির্মাণ করে দ্বীপের প্রবেশদ্বারকে সৈন্যদ্বারা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

১৩৪৮ সালটি পোভেগ্লিয়া দ্বীপের অধিবাসীদের জন্য এক আতঙ্কের বছর, এক বেদনার্ত দীর্ঘশ্বাসের বছর। কারণ এ সময় দ্বীপের নোঙর ফেলা দুইটি জাহাজে বিউবোনিক প্লেগ দেখা দেয় এবং এই রোগে আক্রান্ত দুইজন মারা যায়। কিন্তু এখানে কাজ করা এবং অতিথিদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়নি। ধীরে ধীরে প্লেগের মহামারী আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। শয়ে শয়ে মানুষ মারা যেতে থাকে। চিকিৎসা করেও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্দরটি সিল করে দেওয়া হয, পভেগ্লিয়া জনশুন্য হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ইতালির বিভিন্ন শহরে প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে প্লেগ রোগে আক্রান্তদের ওই নিঝুম, জনমানবশূন্য পভেগ্লিয়া দ্বীপে পাঠানো হত। রোগীরা মৃত্যুর প্রহর গুণতে থাকেন সেই নির্জন দ্বীপে। ফলে এই দ্বীপ ক্রমান্বয়ে হয়ে ওঠতে থাকে সংক্রামিত রোগীর নির্বাসন কেন্দ্র।

পরে ক্রমেই বাড়তে থাকা রোগীর সংখ্যায় উদ্বিগ্ন ইটালি সরকারের এক নির্মম নির্দেশে ওই দ্বীপেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে। সেই থেকে মৃত মানুষের হাজার-হাজার কঙ্কাল ছড়িয়ে পড়ে দ্বীপের চারপাশে।

আরও জানতে এই ভিডিও লিংকে ক্লিক করুন

বিডি২৪লাইভ

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.