‘আমার টাকা নেই, তাই আলালের ঘরের দুলালরাই মনোনয়ন পান’

আমি ড. আসাদুজ্জামান রিপন !

আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। সমাজ পরিবর্তনের সোনালী নেশায় কৈশোরেই প্রেমে পড়ে যাই “রাজনীতির”। হারাতে হয়েছে জীবনে অনেক স্বর্নালী সময়।  চুরি হয়ে গেছে অবেলায় অনেক স্বপ্ন। বন্ধুরা যখন প্রেমিকার হাত ধরে গাছের নিচে প্রেমের জাল বুনছে, আমি তখন উদ্ধত হাতে পিচঢালা রাজপথে গগন বিধারি চিৎকারে আকাশ বাতাশ কম্পিত করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
বন্ধুরা যখন পড়া লিখার ইতি টেনে নিজেকে সেট করার জন্য এই অফিস ঐ অফিস ছুটছে, আমিও তখন তীব্র বেগে ছুটে চলছি, এই ডেরায়, ঐ ডেরায় পুলিশের সাথে ইঁদুর বিড়াল খেলে। নিজেকে সেট করে প্রেমিকার মেহেদী রাংগা চুড়ি পরা হাত ধরে বিয়ের আসরের দিকে এগিয়ে যায় আমার হাতেও তখন লোহার চুড়ি পড়ে অন্ধকার কারাগারে এগিয়ে যাই।
লাল নীল আলোক সজ্জায় রঞ্জিত বাড়ি থেকে ফুলেলা গাড়িতে যখন নতুন ঠিকানায় রওনা দেয় বন্ধুরা আমিও তখন সারেন বাজিয়ে গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাই। আমার গাড়িতে থাকে ফুলের পরিবর্তে নিশ্বাস নেওয়ার ছোট ছোট কিছু ফুটা। আমি অন্ধকার সেই লোহার গাড়ির ভিতর ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে বন্ধুর নতুন ঠিকায় যাওয়া দেখি। আমিও যাচ্ছি পৃথিবীর মাঝে চার দেওয়ালের আরেক পৃথিবীতে।বন্ধু যখন প্রিয়াকে নিয়ে ফুলশয্যায় আমি তখন আমদানি হয়ে ইলিশ ফাইলে…..

মেঘে মেঘে অনেক বেলা চলে যায়। বন্ধু তার টাকায় বাবাকে হজ্বে পাঠায় আর আমার বাবা থানা -পুলিশ, কোর্ট কাচারি ঘুরে বৃদ্ধ বাবা ক্লান্ত হয়ে রণে ক্ষান্ত দিয়ে অন্য ভুবনে চলে যায় আমার আর্ত চিৎকার চার দেওয়ালের মাঝে প্রতিধ্বনি হয়ে নিজের কানেই ফিরে আসে। একদিন মা হারিয়ে যায় আকাশের তারা হয়ে, আমি তখন দূরে বহু দূরে অন্ধকার কারা প্রকোষ্টে । এইভাবে পড়ন্ত বেলায় আমি দাঁড়িয়ে একা বড় একা। একটু তৃপ্তি নিজের প্রাণ প্রিয় সংগঠনের স্বীকৃতি, কিছু ভাই অভিভাবক, অনুজের ভালবাসা, হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা…. বয়স তখন মধ্য গগণ পার হয়ে পড়ন্ত বেলায় হেলে পড়ে……এই জীবন কাহিনী শুধু আমার নয় রাজনীতির মায়াজালে বন্ধু সকলের। কালের সাক্ষী, কালের ইতিহাস হয়ে বয়ে বেড়াতে হয় আমাদের।

কিন্তু যখন কোন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ আসে, নিজের এত দিনের কষ্টের, শ্রম ঘামের মূল্যায়নের সুযোগ আসে তখন পাহাড় সমান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আমার অর্থনৈতিক মানদণ্ড। কিছু অর্বাচীন এগিয়ে আসে, বলে নির্বাচন করতে অর্থ লাগে, তার অর্থ নেই তাই তাকে নয় আলালের ঘরের সর্ব সুখ ভোগী আমার সেই বন্ধুকে মনোনয়নের জন্য এগিয়ে আনা হয়।
আমার অনেক কষ্টের, শ্রমে পাথুরে জমিন যখন ফসলে ভরপুর তখন বর্গী এসে তা ভক্ষণ করে। তখন আমার বুকের আর্তনাদ অট্টহাসি দিয়ে আমায় উপহাস করে।
কেউ কি ফিরিয়ে দিতে পারবে আমার সেই বর্নীল সময়?? প্রেমিকার কোলে শুয়ে মাথায় বিলি করে দেওয়া স্বপ্নিল সময়? আলোকিত আতসবাজির মাঝে নতুন জীবনের হাতছানি?? ফুলসয্যার রাত, প্রিয়ার লাজুক হাসি! বাবার হাসিমাখা মুখ?? মায়ের মায়াবী মুখ না কিছুই আমি পাবোনা।
তবে কেন আমায় বঞ্চিত করা হবে আমার প্রাপ্যতা থেকে?? বন্ধুরা আসুন এগিয়ে বন্ধ হোক এই তামাশা।

লেখক: ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিশেষ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। 

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া)

Loading...

About চিফ ইডিটর

View all posts by চিফ ইডিটর →

1 thought on “‘আমার টাকা নেই, তাই আলালের ঘরের দুলালরাই মনোনয়ন পান’

  1. নিরবাচনে টাকা বড় সমস্যা নয়। নিরবাচনের টাকা ভুতে যোগায়। লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যান। আল্লাহ সহায় হবেন। জনগণ ভোট দিবে ইনশাল্লাহ। আমরা সাথে –
    পিছে আছি। রাজনীতিতে বর্তমানে ভাল লোক প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.